সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গরুর পাতলা পায়খানা হলে করণীয় কি? ঘরোয়া চিকিৎসা

খামারের গরুটার যখন হঠাৎ পাতলা পায়খানা শুরু হয় , তখন জানটা এমনিতেই উধাও হয়ে যায়। বিশেষ করে এই যখন বর্ষা নামে , কিংবা হুট করে গরম গিয়ে ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করে—তখনই এই আপদটা বেশি দেখা দেয়। অনেক সময় দেখা যায় খামারি ভাইয়েরা ভয় পেয়ে আন্দাজে ওষুধ খাওয়ানো শুরু করেন , যা একদমই ঠিক না। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে গরুর শরীর নিঙড়ে সব পানি বের হয়ে যায়। গরুটা তখন নিস্তেজ হয়ে পড়ে , এমনকি মারাও যেতে পারে। তাই আজকের এই লেখায় সহজ করে বলব , গরু র পাতলা পায়খানা হলে করণীয় কী , আর ঘরে থাকা জিনিসপত্র দিয়ে কীভাবে এর সুরাহা করা যায়। ১. শুরুতেই যা জানা দরকার খামার করে দুপয়সা লাভ করতে চাইলে গরুর শরীরের দিকে সবার আগে নজর দিতে হবে। গরু যখন তার রোজকার স্বাভাবিক শক্ত গোবরের বদলে একদম পানির মতো ছড়ছড় করে পায়খানা করে , ওটাকেই আমরা ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা বা পেটের অসুখ বলি। এটা কিন্তু নিজে কোনো রোগ না , আসলে গরুর পেটের ভেতরে কোনো ঝামেলা পাকিয়েছে , খাবার দাবার নষ্ট ছিল কিংবা কোনো জীবাণু ঢুকেছে—তারই একটা জানান দেওয়ার ধরণ। প্রথম দিনেই যদি আমরা একটু সতর্ক হই আর ঠিকঠাক যত্ন নিই , তবে ডাক্তারের পেছনে বড় টাকা খরচ না করেই গরুট...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

গরুর ক্ষুরা রোগের কারণ, লক্ষণ ও ঘরোয়া প্রতিকার: খামারকে লোকসান থেকে বাঁচানোর সম্পূর্ণ গাইড

  খামারি ভাইদের জন্য সবচেয়ে আতঙ্কের একটি নাম হলো গবাদি পশুর ক্ষুরা রোগ। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ , যা খুব দ্রুত এক পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে খামারের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো গরুর ক্ষুরা রোগ হলে করনীয কি এবং কীভাবে এই রোগ থেকে আপনার প্রিয় পশুকে মুক্ত রাখবেন। গবাদি পশুর ক্ষুরা রোগ বা এফএমডি খামারিদের জন্য এক বিরাট আতঙ্কের নাম। এটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে খামারের উৎপাদন যেমন লাটে ওঠে , তেমনি পশু মারা যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। গরু , মহিষ , ভেড়া কিংবা ছাগলের মতো খুর থাকা পশুদের এই ক্ষুরা রোগ হয়ে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত শীত আসার মুখে আর বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এই রোগের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। রোগটি ধরলে গাভীর দুধ দেওয়া একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায় , বলদ গরু দুর্বল হয়ে পড়ে আর ছোট বাছুরগুলো তো সহজেই মারা যায়। তাই লোকসান এড়াতে এই রোগ নিয়ে আগে থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি। রোগ ছড়ানোর আসল কারণ অনেকেই মনে করেন এটি সাধারণ ...

কবুতরের বসন্ত (Pigeon Pox) হলে কি করনীয় : কারণ, লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসা

গত কয়েক বছর আগের কথা। আমার এক প্রতিবেশীর প্রায় ৫০-৭০ জোড়া চমৎকার একঝাঁক কবুতর ছিল। সে বছর বর্ষাকালে হুট করেই তার ৩-৫ জোড়া কবুতর বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আমি তাকে বাচ্চার মতো অসহায় হয়ে কাঁদতে দেখেছি। অবুঝ এই পাখিগুলোর প্রতি তার ভালোবাসা আর সেই কান্না দেখে আমার নিজের চোখও পানিতে ভরে এসেছিল। আসলে , কবুতর পালনকারীদের জন্য ‘বসন্ত রোগ’ বা ‘পক্স’ একটি মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে গরম আর বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে দেখতে দেখতে পুরো খামারের সব কবুতর আক্রান্ত হতে পারে , এমনকি পুরো খামার নিমেষেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আমরা মানুষ , কষ্ট হলে মুখে বলতে পারি। কিন্তু এই অবুঝ পাখিরা তা পারে না। ওদের কষ্টটা আমাদেরই বুঝে নিতে হয়—ওদের ঝিমানো , নড়াচড়া না করা বা খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার ভঙ্গিমায়। ছোটবেলায় দেখতাম , কবুতরের বসন্ত হলে অনেকে অবহেলা করে ফেলে রাখত , যার শেষ পরিণতি হতো মৃত্যু। তাই কবুতরপ্রেমী হিসেবে আমাদের এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি। ১. রোগের আসল কারণ কী ? কবু...

পুরুষ মাছই সন্তানের জন্ম দেয়, স্ত্রী নয়! সমুদ্রের বিস্ময় - সি হর্স

  নতুনকে দেখা আর জানার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। আমার ইচ্ছা দুনিয়ার সমস্ত প্রাণী সম্পর্কে জানব। হোক সে দুনিয়ার উপরে বা মাটির নিচের অথবা পানির নিচের। সে স্বপ্ন নিয়েই আমার পথ চলা। সে ধারাবাহিকতাই আজ জানব অফুরন্ত বিস্ময়ের ভিড়ে সবচেয়ে অদ্ভুত আর নজরকাড়া এক প্রাণী সম্পর্কে যার নাম সি হর্স ( Sea Horse ) বা সমুদ্রঘোড়া । প্রাণীটিকে আমি প্রথম দেখি একটি ভিডিওতে, আমার মনেই হয়নি এটি কোনো মাছ । এর বিচিত্র গ ঠ ন ও অদ্ভুত লাইফস্টাইল যুগ যুগ ধরে আমার মত বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে । সি হর্স - নামকরণের ইতিহাস সি হর্সের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Hippocampus । শব্দটা শুনতে বেশ ভারী মনে হলেও এর উৎপত্তি কিন্তু দারুণ । প্রাচীন গ্রিক ভাষার দুটি শব্দ—‘ Hippos’ ( যার অর্থ ঘোড়া) এবং ‘ Kampos ’ ( যার অর্থ সমুদ্রের দানব) মিলেই তৈরি হয়েছে এই নাম । আসলে , এই মাছগুলোর মাথা , বাঁকানো ঘাড় আর মুখের সম্মুখভাগ দেখতে হুবহু ডাঙার তেজী ঘোড়ার মতো । প্রকৃতির এই অদ্ভুত মিলের কারণেই সাধারণ মানুষ ভালোবেসে এর নাম দিয়েছে ‘সমুদ্রঘোড়া’ । শুধু সাধারণ মানুষই নয় , প্রাচীন গ্রিক ও রোমান রূপকথাতেও এর রোমাঞ্চকর গল্প রয়েছে । পৌর...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গরুর ক্ষুরা রোগের কারণ, লক্ষণ ও ঘরোয়া প্রতিকার: খামারকে লোকসান থেকে বাঁচানোর সম্পূর্ণ গাইড

  খামারি ভাইদের জন্য সবচেয়ে আতঙ্কের একটি নাম হলো গবাদি পশুর ক্ষুরা রোগ। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ , যা খুব দ্রুত এক পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে খামারের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো গরুর ক্ষুরা রোগ হলে করনীয কি এবং কীভাবে এই রোগ থেকে আপনার প্রিয় পশুকে মুক্ত রাখবেন। গবাদি পশুর ক্ষুরা রোগ বা এফএমডি খামারিদের জন্য এক বিরাট আতঙ্কের নাম। এটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে খামারের উৎপাদন যেমন লাটে ওঠে , তেমনি পশু মারা যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। গরু , মহিষ , ভেড়া কিংবা ছাগলের মতো খুর থাকা পশুদের এই ক্ষুরা রোগ হয়ে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত শীত আসার মুখে আর বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এই রোগের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। রোগটি ধরলে গাভীর দুধ দেওয়া একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায় , বলদ গরু দুর্বল হয়ে পড়ে আর ছোট বাছুরগুলো তো সহজেই মারা যায়। তাই লোকসান এড়াতে এই রোগ নিয়ে আগে থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি। রোগ ছড়ানোর আসল কারণ অনেকেই মনে করেন এটি সাধারণ ...